সমতট ডেস্ক :চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই দিন বয়সী অজ্ঞাত এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ভর্তি করানো হয় তাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি সেই নবজাতককে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১০ মিনিটে শিশুটি মারা যায়।
এর আগে রোববার বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতাল সংলগ্ন স্থানে একটি প্যাকেটের ভেতর শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে কান্নার শব্দ শুনে ছুটে যান হাসপাতালের কর্মীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায়ও ধরা পড়ে। ফুটেজে দেখা গেছে, দুই তরুণ তরুণী একটি প্যাকেটে করে শিশুটিকে হাসপাতালের পাশে রেখে দ্রুত সরে যান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসন ও পটিয়া থানা পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে।
উদ্ধার হওয়া শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স জয়নাব বিবি। তিনি জানান, শিশুটির ওজন ছিল মাত্র ৯০০ গ্রাম। ধারণা করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম হয়েছে।
এত কম ওজনে জন্ম নেওয়া শিশুদের শ্বাসকষ্ট, সংক্রমণসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি থাকে।
হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শিশুটিকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও অবস্থার অবনতি ঘটে এবং রাত ১২টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অজ্ঞাত শিশুটি উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকজন নিঃসন্তান দম্পতি তাকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। তবে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের আগেই শিশুটির মৃত্যু হওয়ায় সেই সম্ভাবনারও অবসান ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। নবজাতকটিকে এভাবে ফেলে যাওয়ার পেছনে কী কারণ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

