সমতট ডেস্ক : এক সময় পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া মাছ গরিব ও মধ্যবিত্তের প্রধান ভরসা ছিল। তখন বাজারে এই মাছগুলো সহজলভ্য, দামও ছিল নাগালের মধ্যে। কিন্তু এখন আর সেই অবস্থা নেই। এই মাছগুলো এখন গরিবের জন্য অনেকটা বিলাসপণ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাছের বাজারেও দাম বেড়েছে লাগামহীনভাবে। ফলে গরিব মানুষের হাড়িতে আগুন জ্বালানোই কঠিন হয়ে পড়ছে।
আগে গরিবের ভরসায় থাকা পাঙ্গাস-তেলাপিয়া এখন দাম বেড়ে উচ্চবিত্তের পণ্যে পরিণত হয়েছে। ফলে সমাজের মধ্যবিত্ত ও গরিব জনগোষ্ঠী এখন মাছ কেনা অনেক কমিয়ে দিয়েছে। তাদের অভিযোগ,বাজারে নেই কোনো নিয়ন্ত্রণ, নেই সরকারের কার্যকর নজরদারি।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার, ঝিগাতলা কাঁচাবাজারসহ বেশ কয়েকটি মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস মাছ প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক বছর আগেও এই দুই মাছের দাম ছিল অর্ধেকেরও কম। যা দিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত তাদের মাছের চাহিদা মেটাতো।পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া মাছের দর নিয়ে কয়েকজন স্বল্প আয়ের মানুষের সঙ্গে কথা হয়। তারা এ মাছের দর নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা আগে মাছের চাহিদা মেটাতে কোনো রকম পাঙ্গাস-তেলাপিয়া মাছ কিনতাম। এখন এই মাছও উচ্চবিত্তের হয়ে গেছে। যা আমাদের কেনার সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।
রিকশাচালক আমির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আগে সপ্তাহে একদিন হলেও তেলাপিয়া বা পাঙ্গাস কিনে বাচ্চাদের খাওয়াতাম। এখন সেই সামর্থ্য নেই। বাজারে গেলে শুধু দাম শুনেই ফিরে আসি। এখন এক এক কেজি তেলাপিয়া ৩০০-৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। পাঙ্গাসও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার এলে কষ্ট করে হলেও ঘরে একটু ভালো খাবারের ব্যবস্থা করি। কিন্তু এখন মাছ কেনা অসাধ্য হয়ে পড়েছে।’
গার্মেন্টস কর্মী সুরুজ আলী বলেন, গরুর মাংস কখনো ঈদ ছাড়া খাওয়া হয় না। মাঝে মধ্যে ছয় মাসে একবার মুরগির মাংস কিনে নিতাম সেটিও এখন নাগালের বাইরে। আগে প্রতি শুক্রবারে বাচ্চাদের জন্য পাঙ্গাস অথবা তেলাপিয়া মাছ কিনে নিতাম। সে মাছ দিয়ে বাচ্চাদের পেট ভরে খাওয়াতাম। এখন সে মাছগুলো কয়েক গুণ দাম বেড়ে গেছে। এখন আমাদের পাঙ্গাস-তেলাপিয়া মাছ কিনে খাওয়া স্বপ্ন হয়ে গেছে।খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, খামারের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। খাবার, শ্রমিক মজুরি আর পরিবহন ভাড়ার চাপ সরাসরি মাছের দামে প্রভাব ফেলছে। ফলে গরিব মানুষের সাধ্যের মাছ এখন হয়ে গেছে বিলাসপণ্য।
টাউন হল বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সবুর আলী ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা আগে পাইকারি দরে তেলাপিয়া-পাঙ্গাস কম দামে কিমে আনতে পারতাম। এখন সেগুলো দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এখানে বাজার কারসাজিতে বড় বড় ব্যবসায়ীরা জড়িত। আমাদের কিছু করার নেই।’
একই অভিযোগ করেন ঝিগাতলা কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী ইউসুফ মিয়া। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে এ বাজারে মাছের ব্যবসা করছি। কখনো পাঙ্গাস-তেলাপিয়া মাছের এত দাম দেখিনি। গত কয়েক মাস ধরে এ মাছের দাম লাগামহীন। ক্রেতারা এসে আমাদের কাছে দাম শুনে অনেক কথা বলে। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে নানা কথা বলে। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই। আমরা চাইলেই কম দামে বিক্রি করতে পারি না।’

