সমতট ডেস্ক: দেশে খেলাপি ঋণ বাড়লেই দোষারোপ করা হয় ব্যবসায়ীদের। কিন্তু সব দায় তাদের নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর )পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ‘মাসিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক অন্তর্দৃষ্টি’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি বলেন, “ব্যবসার পরিবেশ এখন উদ্যোক্তাবান্ধব নয়। উদ্যোক্তাদের আগের ঋণ পরিশোধ করতে নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে। এতে খেলাপির ঝুঁকি আরও বাড়ছে।”
তিনি জানান, আগে ঋণ শ্রেণিকরণে সময়সীমা ছিল ছয় মাস। এখন তা কমিয়ে তিন মাস করা হয়েছে। ফলে তিন মাসের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে না পারলেই সেটি খেলাপি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই নীতিগত পরিবর্তনও খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিসিআই সভাপতি ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জ্বালানি সংকট সমাধান, ‘মব কালচার’ বন্ধ, এবং নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘‘এগুলো ঠিক না হলে খেলাপি ঋণ আরও বাড়বে।’’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা— যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ। তবে মোট বিপদগ্রস্ত সম্পদের পরিমাণ ৯ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে, যা ব্যাংক খাতে সম্পদ পুনরুদ্ধারের দুর্বলতা নির্দেশ করে।
তিনি সতর্ক করেন, উচ্চ খেলাপি ঋণ ভবিষ্যতে ঋণ সংকট (ক্রেডিট ক্রাঞ্চ) সৃষ্টি করতে পারে এবং বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার সেমিনারটি পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতা, অর্থনীতিবিদসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

