সমতট ডেস্ক : চট্টগ্রামের হাটহাজারীর উত্তর মেখলে চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় আলোচনায় এসেছে কুখ্যাত ছোট সাজ্জাদ বাহিনী।
পুলিশ জানায়, চাঁদাবাজির ফোন করেছিলেন বাহিনীর সদস্য মোবারক হোসেন ইমন। নগরের বাকলিয়া থানায় জোড়া খুনসহ একাধিক মামলার আসামি এই ইমন। যে মামলায় বর্তমানে সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী কারাগারে থাকলেও বাহিনী এখনও দাপট দেখাচ্ছে। চাঁদা না পেলে গুলি চালানো তাদের নিয়মে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ১৫ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। না দিলে ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়। গত বুধবার তাঁর বাড়িতে গুলি চালানোর পর আবারও ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়ে হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা। তিনি বলেন, “ইমন নামে একজনের সঙ্গে ফোনে অল্পক্ষণ কথা হয়েছিল। পাত্তা দেইনি। কিন্তু এখন পরিবার নিয়ে ভয়ে আছি।”
পুলিশের ধারণা, অন্তত ছয়জন এই হামলায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ইমনের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট। চিহ্নিতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ।
সাজ্জাদ বাহিনীর রক্তাক্ত ইতিহাস
-
গত ১ আগস্ট উত্তর মোহরায় ব্যবসায়ী ইউনুসকে ১৭ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। কারণ, ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়া।
-
২৯ মার্চ বাকলিয়ায় প্রাইভেটকার ধাওয়া করে দুজনকে হত্যা করা হয়।
-
২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে প্রকাশ্যে আকবর আলী ওরফে ঢাকাইয়া আকবরকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
-
১৩ জুলাই রাউজানের কদলপুরে যুবদল নেতা সেলিমকে গুলি করে পালানোর ভিডিও ভাইরাল হয়।
-
এর আগে রাউজান, চান্দগাঁও ও নগরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হত্যাকাণ্ডে ছোট সাজ্জাদ বাহিনীর সদস্য ইমন ও রায়হানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে গুলি চালানোর ঘটনার এক দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও তার পরিবার।

