সমতট ডেস্ক :রমজান দোয়া কবুলের বিশেষ মাস। হাদিসে এসেছে, তিন ব্যক্তির দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না; তাঁদের একজন হলেন রোজাদার- যখন তিনি ইফতার করেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৫২) রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এই মাসে প্রতিদিনের আমলে কিছু দোয়া যুক্ত করলে ইবাদতের পরিপূর্ণতা বাড়ে। নিচে ধাপে ধাপে একটি দালিলিক গাইড তুলে ধরা হলো।
১. প্রতিদিনের আমল: সাহরি ও ইফতার
সাহরির দোয়া: সাহরি শুরু করার সময় পড়বেন- بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى بَرَكَةِ اللَّهِ
উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ।’
অর্থ: ‘আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর বরকতের সঙ্গে (খাবার শুরু করছি)।’ (আল-হিসনুল হাসিন, পৃ. ২৫৫)
আর সাহরি শেষ করে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন। এক্ষেত্রে সংক্ষেপে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে পারেন অথবা শুকরিয়ার যেকোনো মাসনুন দোয়া পড়া যাবে।
ইফতারের দোয়া: রাসুলুল্লাহ (স.) ইফতার করার পর পড়তেন-
আরবি: ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
উচ্চারণ: জাহাবাজ জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।
অর্থ: তৃষ্ণা দূর হয়েছে, শিরাগুলো সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহ চাইলে পুরস্কার নির্ধারিত হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ: ২৩৫৭)
ইফতারের সময় রাসুল (স.) এই দোয়া পড়তেন—
আরবি: اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।’ (আবু দাউদ: ২৩৫০, মুজামুল আওসাত: ৭৫৪৯)
২. প্রথম দশক: রহমতের দোয়া
রমজানের প্রথমাংশে আল্লাহর রহমত লাভের জন্য কোরআনের এই দোয়াটি বেশি পড়া যেতে পারে-
আরবি: رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
উচ্চারণ: রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমীন।
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আমাকে ক্ষমা করুন ও রহম করুন; রহমকারীদের মধ্যে আপনিই শ্রেষ্ঠ। (সুরা মুমিনুন: ১১৮)
৩. দ্বিতীয় দশক: মাগফিরাতের দোয়া
রমজানের মধ্যভাগে বেশি বেশি ইস্তেগফার করা সুন্নাহসম্মত আমল। সংক্ষিপ্ত একটি দোয়া-
আরবি: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ رَبِّي مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিন ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ: আমি আমার পালনকর্তা আল্লাহর কাছে সব গুনাহ থেকে ক্ষমা চাইছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি। উল্লেখ্য, এ সময় ‘সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার’ পাঠ করাও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ (সহিহ বুখারি)
৪. শেষ দশক: নাজাত ও কদরের দোয়া
শেষ দশক নাজাতের সময়। লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা এ সময়ের মূল আমল।
কদরের বিশেষ দোয়া: হজরত আয়েশা (রা.)-কে রাসুল (স.) শিখিয়েছিলেন-
আরবি: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন। (জামে তিরমিজি: ৩৫১৩)
জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া
আরবি: اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন। (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭৯)
৫. রমজানজুড়ে বেশি পড়ার ৪ দোয়া/আমল
হাদিসে রমজানে চারটি আমল বেশি করার কথা উল্লেখ আছে-
১. কালিমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বেশি পড়া।
২. বেশি বেশি ইস্তেগফার।
৩. জান্নাত প্রার্থনা।
৪. জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়া। (মেশকাত: ১৯৬৩)
দোয়া কবুলের বিশেষ সময়
আলেমদের মতে রমজানে দোয়া কবুলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো-
রাতের শেষ অংশ
ইফতারের আগ মুহূর্ত
শেষ রাত ও তাহাজ্জুদের সময়
সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ডাক শোনেন (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
পবিত্র রমজানে মুখস্থ কিছু শব্দ উচ্চারণের চেয়ে অর্থ বুঝে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করাই দোয়ার প্রকৃত রূপ। রহমত থেকে মাগফিরাত, মাগফিরাত থেকে নাজাত- এই ধারাবাহিক যাত্রায় প্রতিদিনের আমলে দোয়া যুক্ত করাই হতে পারে রমজানের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

