তৌহিদ হোসেন সরকার
কুমিল্লা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড)–এর ১ নম্বর ফটকের সামনে বকেয়া বেতন–ভাতা পরিশোধ ও পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন নাসা গ্রুপের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শ্রমিকরা ফটকের সামনে জড়ো হতে থাকেন এবং সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে তারা মানববন্ধন শুরু করেন। পরে এতে বিক্ষোভ মিছিল যুক্ত হয়।
নাসা স্পিনিং লিমিটেড, নাসা স্পিনারসসহ নাসা গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ধীরে ধীরে উৎপাদন কমাতে থাকে। পরে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণভাবে ‘বন্ধ’ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বন্ধের পরও বহু শ্রমিকের কয়েক মাসের বেতন–ভাতা বকেয়া থেকে যায়।
শ্রমিকদের অভিযোগ— বারবার সময় দিলেও ব্যবস্থাপনা পক্ষ পাওনা পরিশোধের কোনো পরিষ্কার সিদ্ধান্ত দেয়নি।
এরই মধ্যে গত ২৯ নভেম্বর কোম্পানির পক্ষ থেকে নতুন একটি নোটিশ প্রকাশ করা হলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়ে যায়। শ্রমিকদের দাবি— নোটিশে বকেয়া পরিশোধের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।
এতিকে
মানববন্ধন বিক্ষোভে পরিনত হয়েছে
হাজারো শ্রমিক সকালের মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভে অংশ নেন। তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়
“আমাদের দাবি মানতে হবে”,
“কাজ ফিরিয়ে দাও, না হলে বেতন–ভাতা দাও।”
এক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“আমডারে বেতন দিতে কন, পোলা–মাইয়া না খাইয়া আছে।
নাসা গ্রুপের মালিক আসুক, সমাধান করুক। বেপজার লোকেরা শুধু মিথ্যা শান্তনা দেয়।”
আরেক শ্রমিক বলেন—
“ঘর ভাড়া দিতে পারতেছি না। অনেকদিন চুলায় আগুন জ্বলে না। পাওনা ছাড়া ঘরে ফিরব না।”
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের উদ্দেশে বেপজার জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন—
“আপনাদের কষ্ট আমরা জানি এবং দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ধৈর্য্য ধরুন, দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।”
নাসা গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মেজর আব্দুল হাফিজ শ্রমিকদের শান্ত থাকতে আহ্বান জানিয়ে বলেন—
“৩০ নভেম্বর বেতন–ভাতা দেওয়ার কথা থাকলেও কোম্পানি বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। তবু শ্রমিকরা যেভাবে ধৈর্য দেখিয়েছেন, আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। সমস্যার সমাধানে কাজ চলছে।”
এদিকে আইনশৃঙ্খলা
কঠোর নিরাপত্তায় ইপিজেড এরিয়া
দুপুর পর্যন্ত চলা মানববন্ধন ও বিক্ষোভে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বেপজা কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর উপস্থিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।
শ্রমিকদের একটাই দাবি
“বকেয়া পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করলেই ঘরে ফিরব।”
তারা সরকার, বেপজা এবং নাসা গ্রুপের মালিকপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।

