তৌহিদ হোসেন সরকার
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়ছার দায়িত্ব শেষে বিদায়ী চিঠিতে কুমিল্লাবাসী ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, এক বছর দুই মাসের দায়িত্বকাল তাঁর কর্মজীবনের এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকবে। মাঠ প্রশাসন, দুর্যোগ মোকাবিলা, উন্নয়নকাজ ও সাংবাদিক সমাজের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
তবে ডিসির এই আবেগঘন বিদায় বার্তা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু সমালোচনাও দেখা যাচ্ছে। নাগরিকদের একাংশের অভিযোগ—দায়িত্বকালে কুমিল্লার দীর্ঘদিনের অনেক সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় হতাশা বেড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও ভোগান্তি কমেনি টমছমব্রিজ–বাখরাবাদ চৌমুহনী সড়কটি প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচলের পথ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির গুরুত্ব জানা থাকলেও রাস্তা সংকুচিত করে দোকানঘর বরাদ্দ দেওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
এক বছরেও সড়ক সংস্কারের কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানাচ্ছেন পথচারীরা।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়ক নিয়েও একই অভিযোগ। চার লেন করার পরিকল্পনার কথা থাকলেও বাস্তবে কাজ হয়নি। রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ প্রতিদিনের ঘটনা।
যানজট–অপরাধে নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থা নগরীর যানজট কুমিল্লার সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি। সকালে ও অফিস–আওয়ারে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। সাংবাদিক মহলে প্রচলিত অভিযোগ—যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
কিশোর গ্যাং–সংক্রান্ত সমস্যা, ছিনতাই ও রাহাজানির ঘটনাও এ সময় বাড়তে থাকে। শহরের ওয়ার্ডভিত্তিক কয়েকটি এলাকায় অপরাধচিত্র নিয়ে নাগরিকরা বহুবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মাদক–সংকট:
সর্বাধিক ক্ষোভ এখানেই, গোমতী নদীর পাড়সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় মাদক বিক্রি ও সেবনের প্রসার নিয়ে বহুদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য—মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের অবস্থান দুর্বল ছিল।
পাঁচথুবী ইউনিয়নে ডাবল মার্ডার প্রসঙ্গে এলাকাবাসী বলেন,
“মাদককারবারিদের দৌরাত্ম্যের কারণে একই ঘরের মা ও ভাই নিহত হয়েছে। গোমতী রোডে মাদকের রমরমা ব্যবসা নিয়ে সবাই জানে
কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ ছিল না।”
পুকুর ভরাট ইস্যুতে দ্বৈত মানসিকতার অভিযোগ পুকুর ভরাট বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও জেলখানার পুকুর ভরাট করায় প্রশ্ন উঠেছে। পরিবেশবিদদের যুক্তি—সরকারি স্থাপনার জলাধার ভরাট হলে বেসরকারি খাতকে থামানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
বিদায়ী জেলা প্রশাসকের আবেগঘন চিঠি যেমন সাড়া ফেলেছে, তেমনি শহরের নিত্যদিনের সমস্যা—সড়ক, যানজট, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে সমানভাবে।
নাগরিকদের আশা, পরিবর্তনশীল কুমিল্লার জন্য ভবিষ্যৎ প্রশাসন এসব বাস্তব সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করবে।

