মতট ডেস্ক: ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীবাসীর মনে তৈরি হয়েছেন আতঙ্ক, সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার (১১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর অন্তত চারটি জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ পর সন্ধ্যায় আরও দুইটি জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। রাতে ককটেল বিস্ফোরণে ঘটনা ঘটেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অফিসের সামনে।
এনসিপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপ
সোমবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ের সামনে ৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় একটি ককটেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় পাওয়ো গেছে। এ ঘটনায় একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক এবং একজন ভ্রাম্যমাণ চা-পান বিক্রেতা আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গণপিটুনিতে আহত একজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, ককটেল বিস্ফোরণের পর মোটরসাইকেল দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুইজনকে ধাওয়া দিয়ে ও পরে আরও ৩ জনসহ মোট ৫ জনকে আটক করে মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করেছেন এনসিপি নেতাকর্মীরা।
এনসিপির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় দুর্বৃত্তরা ৫টি ককটেল নিক্ষেপ করলেও ১টি বিস্ফোরিত হয়নি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে দলীয় নেতাকর্মীদের তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এ ঘটনায় ঢামেকে নেওয়া যুবকের নাম মো. মাসুদুর রহমান (২৮)। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদ তাকে উদ্ধার করে রাত পৌনে ১২ টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, মাসুদুর রহমানের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার কাজশা গ্রামে। বর্তমানে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় থাকেন।
আগারগাঁও-মিরপুরে ককটেল বিস্ফোরণ
সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বেতার ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
রাত পৌনে আটটার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় শাহআলী মার্কেটের সামনে আরও তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
বেতার ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হক।
তিনি বলেন, “বেতার ভবনের প্রধান ফটকের সামনে কে বা কারা একটি ককটেল ছুঁড়ে মারলে সেটি বিস্ফোরিত হয়। তবে কেউ হতাহত হননি।”
পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ভিডিও দেখে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছে বলে জানান ওসি।
শাহ আলী মার্কেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে মিরপুর মডেল থানার ওসি সাজ্জাদ রোমান বলেন, “এটা কাফরুল থানা এলাকার ঘটনা।” তবে কাফরুল থানার ওসিকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
উপদেষ্টার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যালয়সহ ৩ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ
এর আগে ভোর পৌনে ৪টার দিকে মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে হাতবোমা ছুঁড়ে পালিয়ে যায় দুই দুর্বৃত্ত।
এ ঘটনায় একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে করে সাদা পোশাকে দুই জন ব্যক্তি এসে গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে দাঁড়ায়। এ সময় তাদের মুখে গামছা বাঁধা ছিল। মুহূর্তের মধ্যেই তারা পরপর দুইটি ককটেল নিক্ষেপ করে মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এরপর মোহাম্মদপুরে স্যার সৈয়দ রোডে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের খাদ্যপণ্যের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ‘প্রবর্তনা’র সামনে ও সীমানার ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি কাজী রফিক আহমেদ বলেন, “সকালের দিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উপদেষ্টার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে দুষ্কৃতিকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ করেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এছাড়া, ধানমন্ডির ২৭ নম্বরে রাপা প্লাজার কাছে মাইডাস সেন্টারের সামনে এবং ধানমন্ডি ৯/এ ইবনেসিনা হাসপাতালের সামনে সকাল ৭টার দিকে ককটেল ফাটানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে দুই-তিনজন এসে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ হলে আশপাশে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
৩ বাসে আগুন
এছাড়া সারা দিনে রাজধানীতে অন্তত তিনটি বাস পোড়ানো হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধানমন্ডিতে ল্যাব এইড হাসপাতালের সামনের সড়কে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শান্তা-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।
এছাড়াও, সকালে শাহজাদপুরে ভিক্টর পরিবহন এবং মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কাছে আকাশ পরিবহনের বাসে আগুন দেওয়া হয় বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।
এছাড়াও, সন্ধ্যায় মৌচাক ও খিলগাঁওয়ে দুটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তবে এ বিষেয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বাড়তি সতর্কতা
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “রাজধানীর কয়েকটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কয়েজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। যেকোনও ধরনের নাশকতার প্রতিরোধে পুলিশ তৎপর রয়েছে। বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার এবং সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।”
