সমতট ডেস্ক : কুমিল্লা সদর উপজেলার আড়াইওড়ায় হৃদরোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা মামলার আবেদন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের হয়রানির অভিযোগ করেছেন জার্মান প্রবাসী আজাদ রহমানের স্ত্রী সোনিয়া রহমান। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সোনিয়া রহমান জানান, তার স্বামী আজাদ রহমান দীর্ঘদিন ধরে জার্মান ও সুইজারল্যান্ডে প্রবাস জীবনযাপন করছেন। গেলো ১১ আগস্ট তিনি দেশে আসেন এবং পরদিন তার বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন। ১৬ আগস্ট প্রতিবেশী মফিজুল ইসলামের বাড়িতে সীমানা সংক্রান্ত আলাপচারিতার সময় হঠাৎ মফিজুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে কুমিল্লা সিডিপ্যাথ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, মফিজুল ইসলাম হৃদরোগে ভুগছিলেন এবং তার হার্টে আগে থেকেই বাইপাস সার্জারি করা ছিল। তবুও মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মফিজুলের স্ত্রী কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলার আবেদন করেন, যেখানে তার স্বামীসহ কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে আদালতেও একটি মামলা দায়ের করা হয়।
সোনিয়া রহমান অভিযোগ করেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রতিবেশীদের সাক্ষ্যে প্রমাণ পাওয়া যাবে যে ঘটনার সময় অভিযুক্তদের কেউই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং কোন ধরণের সংঘর্ষও ঘটেনি। মূলত মফিজুল ইসলামের ছেলে আরিফের কাছে তার স্বামীর ১২ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এ ঋণ পরিশোধ এড়াতেই ষড়যন্ত্র করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাকে মনগড়া সাক্ষী করা হয়েছে, অথচ তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এতে আমি ও আমার দুই সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
তিনি দাবি করেন, তার স্বামী যদি সত্যিই এ ঘটনায় জড়িত থাকেন তবে আইন অনুযায়ী শাস্তি মেনে নেবেন। তবে যদি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে যারা ষড়যন্ত্র ও হয়রানিতে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় আবদুল লতিফ, আবদুস সাত্তার ও ফারুক সর্দারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

