আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নওগাঁ-১ (পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম হয়ে উঠেছে। একসময়ের বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার দলটির মধ্যে ‘ত্রিধারা’ পরিলক্ষিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী এবং কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
উল্লেখ্য, এই আসনটি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দখলে যাওয়ার পর গত ১৬ বছর ধরে একতরফাভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠে নেই এবং দলীয় কার্যালয়গুলো তালাবদ্ধ। জাতীয় পার্টি ও এনসিপিরও কোনো তৎপরতা নেই।
বিএনপির ত্রিমুখী বলয় ও ছয় মনোনয়নপ্রত্যাশী
নওগাঁ-১ আসনে বর্তমানে বিএনপি তিনটি বলয়ে বিভক্ত। একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনবারের নির্বাচিত সাবেক এমপি ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো. ছালেক চৌধুরী। অপর অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তৃতীয় অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন পোরশা উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি শাহ্ আহম্মেদ মো. মোজাম্মেল চৌধুরী।
এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মোট ছয় নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন: ডা. মো. ছালেক চৌধুরী, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পোরশা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. মাসুদ রানা, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য প্রকৌশলী খালেদ হাসান চৌধুরী, শাহ্ আহম্মেদ মো. মোজাম্মেল চৌধুরী, এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য মো. মাহমুদুস সালেহীন।
এই ছয় নেতা নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ করছেন। যদিও সবাই বলেছেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন। তবে ডা. ছালেক চৌধুরী, প্রকৌশলী খালেদ হাসান চৌধুরী এবং লায়ন মাসুদ রানাকে প্রায়শই একসঙ্গে দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যায়।
মাঠে কৌশলী জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর একমাত্র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাঠে সরব রয়েছেন সাপাহার আল-হেরা ইসলামী একাডেমির অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুল আলম। জামায়াত অনেক আগেই তার নাম ঘোষণা করেছে। বিএনপির বিভক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা কৌশলী প্রচার চালাচ্ছেন।
এছাড়া, ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও নির্বাচন সামনে রেখে তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাদের প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত না হলেও একাধিক নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। নওগাঁ জেলা ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র সদস্য মাওলানা মো. উমর আলী, পোরশা উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র সহসভাপতি মো. তৈয়ব শাহ্ চৌধুরী, সাপাহার উপজেলা সভাপতি মো. খন্দকার ফারুক আহম্মেদ মাস্টার এবং নিয়ামতপুর উপজেলা সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

