সমতট ডেস্ক: ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে শিক্ষা ভবনের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি। অধ্যাদেশ জারির আগ পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) শিক্ষা ভবনের সামনে কয়েকশ’ শিক্ষার্থীকে এই কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। গতকাল সকাল ১১টা থেকে তারা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। রাতেও তাদের সরব উপস্থিতি ছিল।
শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচি ঘিরে ইতোমধ্যেই সচিবালয় ও শিক্ষা ভবন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হাইকোর্ট মোড় থেকে সচিবালয়গামী সড়ক ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের দাবিতে আন্দোলনরত ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মো. নাঈম হাওলাদার বলেন, গতকাল থেকে আমরা অধ্যাদেশ জারির একদফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত অধ্যাদেশ জারি না হচ্ছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামটির সামনে থেকে প্রস্তাবিত শব্দটি উঠে না যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।
কবি নজরুল কলেজের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাকারিয়া বারি সাগর বলেন, অধ্যাদেশ জারির আগ পর্যন্ত প্রয়োজনে লাগাতার কর্মসূচি চলবে। প্রয়োজনে কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবো।
উল্লেখ্য, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের লক্ষ্যে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। খসড়ায় সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ বা ‘স্কুলিং’ কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবনা অনুযায়ী কলেজগুলো উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানও চালু থাকবে।
এদিকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রস্তাবিত কাঠামোর বিরোধিতা করে সাতটি কলেজসহ সারা দেশের সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতির মতো মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কায় আছেন। তারা কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র বজায় রেখে ‘অধিভুক্তিমূলক কাঠামোতে’ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।

