সমতট ডেস্ক : জুলাই জাতীয় সনদ এবং পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিভিত্তিক নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে এক বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কুমিল্লা টাউনহল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে মনোহরপুর, রাজগঞ্জ, বাদুরতলা ও লাকসাম রোড পর্যন্ত এলাকাজুড়ে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য কাজী দ্বীন মোহাম্মদ,
মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা মাহবুবুর রহমান এর সঞ্চালনায় আরও
বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও কুমিল্লা অঞ্চলের টিম মেম্বার আব্দুস সাত্তার, মহানগর নায়েবে আমীর এ কে এম এমদাদুল হক মামুন, সহকারী সেক্রেটারি মু. কামারুজ্জামান সোহেল, কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইন, নাছির আহম্মেদ মোল্লা, এবং কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ হোসাইন, আমীর হোসাইন ফরায়েজী, কাজী নজির আহমেদ, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন—
“জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি, পিআর পদ্ধতিতে সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচন, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন ও দুর্নীতির বিচার, এবং স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধকরণ—এগুলো আজ গণমানুষের দাবি।
সরকার যদি এসব ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজনের চেষ্টা করে, তাহলে এটা প্রমাণ হবে সরকার একটি বিশেষ দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—নভেম্বরে গণভোট এবং ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে না দিলে এবং জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচন না হলে জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে বাধ্য হবে।”
তিনি আরও বলেন—
“কুমিল্লা বিভাগ,এবং বিমানবন্দরসহ কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। এই অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের তালবাহানা চলবে না। প্রয়োজনে কুমিল্লার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামবে জামায়াতে ইসলামী।”
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনকে আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন।

