তৌহিদ হোসেন সরকার
কুমিল্লা
পিআর পদ্ধতি ও জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে নগরীর ইবনেতাইমিয়া হলরুমে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম। সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগরীর আমীর ও কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।

পিআর পদ্ধতির উপর প্রজেক্টরের মাধ্যমে
প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহানগরীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক এ কে এম এমদাদুল হক মামুন। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন মহানগরীর জামায়াত সেক্রেটারি মাওলানা মাহবুবুর রহমান।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি মো. কামারুজ্জামান সোহেল, ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, মহানগরীর যুববিভাগের সভাপতি কাজী নজির আহমেদ, কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ হোসাইন, অধ্যাপক জাকির হোসেন ও ভিপি মুজিবুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, “মরহুম গোলাম আযম কেয়ারটেকার সরকারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তখন তা মানা হয়নি। কিন্তু আন্দোলনের মুখে সরকার বাধ্য হয়েছিল। একইভাবে পিআর পদ্ধতিতেও জনগণের দাবি মানতে হবে।” তিনি জানান, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে শিগগিরই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হবে যেখানে পিআর পদ্ধতি নিয়ে আরও আলোচনা হবে।
প্রধান অতিথি মাওলানা এটিএম মাসুম বলেন, “কোন দেশে বিপ্লবী পরিবর্তন ঘটলে সেই দেশের জনগণের মতামত ও বিপ্লবীদের পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় নির্বাচন দিতে হয়। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না করে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এই দেশে আর কোনো স্বৈরাচার শাসন চলবে না। মেম্বার-চেয়ারম্যানদের গম বিতরণে ভাগ বসানো বা মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি জনগণ আর মেনে নেবে না। সংসদের ভারসাম্য পিআর পদ্ধতিতেই নিশ্চিত হবে।”
এটিএম মাসুম অভিযোগ করেন, “বর্তমান সরকার দখলদার, চাঁদাবাজ ও লুটেরাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে দেশকে এক বিশেষ দলের করায়ত্ত করেছে। তবে আন্দোলনের মাধ্যমেই জনগণের দাবি আদায় করা হবে।”
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য পিআর পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই।

