সমতট ডেস্ক : বিদ্যুৎ ও পানির তীব্র সংকট ঘিরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তরুণদের বিক্ষোভের মুখে সরকার ভেঙে দিয়েছেন মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রে রাজোয়েলিনা। বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন, আহত হয়েছেন শতাধিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাজোয়েলিনা বলেন, সরকারের ব্যর্থতার দায় আমি স্বীকার করছি। যদি আমার মন্ত্রিসভার কেউ দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে আমি সেই দায় নিচ্ছি। আমি দুঃখিত।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে মানুষ যে ভোগান্তি পোহাচ্ছে, আমি তা বুঝতে পারছি। জনগণের কষ্ট আমি অনুভব করি, আমি তাদের রাগ ও হতাশার ভাষা শুনেছি।
বিদ্যুৎবিভ্রাট ও পানির ঘাটতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল গত ২৫ সেপ্টেম্বর। মূলত তরুণরাই ‘জেন জি’ ব্যানারে এই আন্দোলন শুরু করে রাজধানী আন্তানানারিভোতে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের আরও অন্তত আটটি শহরে। আন্দোলন দ্রুতই সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে রূপ নেয়।
প্রথমে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট। তবে এতে আন্দোলন থামেনি। বরং বিক্ষোভকারীরা সরাসরি প্রেসিডেন্ট এবং তার পুরো সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানান।
শেষ পর্যন্ত, সোমবার আবারও রাজধানীতে হাজারো মানুষ রাস্তায় নামলে প্রেসিডেন্ট কঠোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন এবং পুরো সরকার বাতিল ঘোষণা করেন।
রাজোয়েলিনা জানান, তিন দিনের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রার্থীদের আবেদন নেওয়া হবে। এরপর শিগগিরই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।
এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০০ জনের বেশি। তাদের অনেকেই তরুণ, যারা গণবিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নির্বাচনে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর রাজোয়েলিনার জন্য এটাই সবচেয়ে বড় সংকট। জনমনে সরকারের প্রতি যে অসন্তোষ জমা ছিল, তা এই আন্দোলনের মাধ্যমে বিস্ফোরিত হয়েছে।

