সমতট ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তির অভিযোগে কুমিল্লার হোমনায় অভিযুক্ত যুবকের বাড়ি কয়েকটি মাজারে অগ্নিসংযোগ করেছে স্থানীয় লোকজন। বৃহস্পতিবার সকালের এ ঘটনায় চারিদিকে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযুক্ত যুবক মহসিন (৩৫) কুমিল্লা হোমনা উপজেলার আসাদপুর গ্রামের ফকির বাড়ির আলেকশাহর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত যুবক বেমজা মহসিন নামক আইডিতে বুধবার সকাল ১০ টা ৫২ মিনিটে নবী (স.) নিয়ে কটুক্তি করে পোস্ট দেন। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা বিক্ষোভ করলে পুলিশ অভিযুক্ত মহসিনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ওই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা হোমনা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই যুবকের বিরুদ্ধে হোমনা থানায় একটি মামলা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এদিকে ফেসবুকে আপত্তিকর ওই পোস্টকে কেন্দ্র বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলাকার বিক্ষুব্ধ লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে অভিযুক্ত যুবকের বাড়ি এবং আসাদপুর গ্রামে কফিল উদ্দিন শাহ ও হাওয়ালি শাহ মাজারে আগুন এবং কালাই শাহ ও আবদু শাহ মাজারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরে মাজারগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. নাজির আহমেদ খান ও হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষ্যেমালিকা চাকমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, গত বুধবার ধর্ম নিয়ে কটূক্তির কারণে জনতার মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিক্ষুব্ধ জনতা মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে।
উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের সেক্রেটারি সফিক রানা জানান, গ্রেপ্তার ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে আসছিলেন। আমরা তার ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ধর্ম নিয়ে কটূক্তিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে জনতার দাবির প্রেক্ষিতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে আদালতের সোপর্দ করা হয়। তবুও সকালে বিক্ষুব্ধ লোকজন মাজারে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক জহিরুল হক জহর সংবাদকে বলেন, গতকাল আমি থানার সামনে বিক্ষুব্ধ জনগণকে শান্ত শিষ্ট থাকার আহ্বান করেছি,অভিযুক্তকে আটক করেছে। আইন অনুযায়ী আজ না হয় কাল বিচার হবেই। অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো আবার একটু বোশি বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে। এসব করা একেবারেই ঠিক হয়নি। এগুলো আমি সমর্থন করি না।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি হোমনা অঞ্চল) মোঃ আব্দুল করিম সংবাদকে জানান, আমরা গতকালই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক রাখতে অভিযুক্তকে আটক করেছি, মামলা নিয়েছি, রিমান্ড চেয়ে জেল হাজতেও পাঠিয়েছি। তবে আজকে সকাল খবর পেয়ে আমরা দ্রুতই পদক্ষেপ গ্রহণ করি ও ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু উত্তেজিত জনতা চারিদিক থেকে আক্রমন করে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করে। এ বিষয়েও প্রশাসন বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমান ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কুমিল্লা পুলিশ সুপার। পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খাঁন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কারো কোন ইন্ধন আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

