সমতট ডেস্ক : কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে বালুর নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১১ এর উপ-পরিচালক মেজর সাদমান ইবনে আলম।
তিনি জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোস্তফাপুর এলাকা থেকে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ আমিনুল ইসলাম (২২) নামের এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আমিনুল ৯ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেট ভ্রমণের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। সর্বশেষ ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে তিনি বাবার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আলী আজ্জম বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, তদন্তে উঠে আসে, নিহতের পরিচিত সিরাজ (২৫) নামে এক যুবক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আমিনুলের কাছ থেকে প্রতারণামূলকভাবে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু চাকরি না দেওয়ায় এবং টাকা ফেরতের চাপ আসায় সিরাজ তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পদুয়ার বাজারের বিসমিল্লাহ আবাসিক হোটেলে আমিনুলকে আটক রাখা হয়। পরে ১০ সেপ্টেম্বর রাতে সহযোগী সজিব (২০) ও অন্যরা তাকে মোস্তফাপুর এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পিছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে লাশ বালুর নিচে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতকরা।
এ ঘটনায় র্যাব-১১ এর একটি বিশেষ দল গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এতবারপুর এলাকা থেকে সজিবকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে একটি হাসুয়া, রক্তমাখা লুঙ্গি ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার সজিব প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় র্যাব। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

