তৌহিদ হোসেন সরকার
কুমিল্লা
১৭৯০ সাল থেকে ইতিহাসের ঘুরাপথে যাত্রা শুরু কুমিল্লা পৌরসভার। প্রায় ১২৫ বছর নাগরিক সুবিধা দেওয়ার পর ২০১১ সালের শেষ দিকে এটি সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত হয়। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি প্রথম সিটি মেয়রের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কুমিল্লা মহানগরীর নাগরিক সেবা শুরু করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)।
কিন্তু সিটিকর নিয়মিত আদায় হওয়া সত্ত্বেও নগরবাসী দীর্ঘদিন ধরে নানা অসুবিধা মেনে মানবিক জীবনযাপন করছে। পুরনো সমস্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো যানজট—যা এখন শহরবাসীর চিরচেনা যন্ত্রণা। তার ওপর যুক্ত হয়েছে ময়লার শহরের তকমা, ড্রেনেজের অব্যবস্থাপনা, খাল দখল এবং অবৈধ যান চলাচল।
নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মালবাহী ট্রাক-লরি প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয় না। ময়লা অপসারণের জন্য রাতের বেলা নির্ধারিত থাকলেও দিনের বেলাতেই চলছে ময়লা বহন।
শনিবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে টমছমব্রিজ এলাকায় তোলা এক ছবিতে দেখা যায়—ময়লা বহনকারী একটি ট্রাক্টর দীর্ঘ যানজটের ভেতর আটকে আছে, চারদিকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।
কেবল তাই নয়, কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দকৃত এই ট্রাক্টর শহরের সড়কে অবৈধ যান হিসেবেই চলছে। দ্বিগুণ ভোগান্তিতে শিকার শহরবাসী:
দিনের বেলা ময়লা সরানো
অবৈধ যান হিসেবে ট্রাক্টর ব্যবহার
ট্রাক্টরের ঝাঁকুনিতে ১৫-২০ শতাংশ ময়লা রাস্তায় ঝরে পড়া, যা নগরীর পরিবেশকে আরও নোংরা করছে
নতুন প্রশাসকের কাছে কুমিল্লাবাসীর একটাই প্রত্যাশা—একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত নগর। তাদের প্রস্তাব:
1. কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে অবৈধ যানবাহন
2. রাতের বেলা বাধ্যতামূলক ময়লা অপসারণ
3. ড্রেনেজ ও খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প
4. আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন
5. পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থার উন্নয়ন করে যানজট কমানো
শহরের পুকুরের পানি স্বচ্ছ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সিটি প্রশাসন, কিন্তু ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকেজো হওয়ায় পুকুরগুলো ময়লা পানিতে একাকার হয়ে আছে।
কুসিকের নতুন প্রশাসক যদি এই দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করেন, তাহলে ঐতিহাসিক কুমিল্লা নগরী একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে দেশের অন্যতম শহরের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে—এমনটাই আশা করছেন নাগরিকরা।

