সমতট ডেস্ক : কুমিল্লা-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, জনজীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের খানাখন্দে জমে যায় পানি, কোথাও কোথাও তৈরি হয় নোংরা কাদা। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীবাহী যান চলাচল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, ব্যক্তিগত পরিবহনেও এ সড়কে চলাচল করছেন না অনেকেই।
গত দুদিনের টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ব্রাহ্মণপাড়া সিএনজি স্টেশন থেকে ভিশন হাসপাতালের মোড় হয়ে টাটেরা শিশু মাতৃ হাসপাতাল, বুড়িচং উত্তর ও দক্ষিণ বাজার, কলেজ মোড়, ভরাসার বাজার হয়ে সোনার বাংলা কলেজ পর্যন্ত সড়কে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। ফলে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। আগে কুমিল্লা-ব্রাহ্মণপাড়া যাতায়াতে সময় লাগত ৩০-৪০ মিনিট, এখন লাগে দেড় ঘণ্টা।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রাণিসম্পদ অফিস ও শিশু মাতৃ হাসপাতালের সামনের অংশসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি ও খানাখন্দে ধীরগতিতে চলছে ট্রাক, বাস, সিএনজি, অটোরিকশা। এর ফলে ব্রাহ্মণপাড়া সাহেবাবাদ বাজার থেকে ব্রাহ্মণপাড়া বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় লেগে থাকে যানজট। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন কুমিল্লা-ব্রাহ্মণপাড়া রুটের যাত্রী, চিকিৎসা নিতে কুমিল্লায় যাওয়া রোগী ও কর্মজীবীরা।
সিএনজি চালক জয়নাল মিয়া বলেন, “জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। সিএনজি চালাতে সমস্যায় পড়তে হয় এবং দুর্ঘটনার শঙ্কায় থাকি।” চালক মিজান ও কালাম জানান, “খানাখন্দের কারণে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালানো যায় না, আর ইঞ্জিনে পানি ঢুকে গাড়ি অচল হওয়ার ভয় থাকে সবসময়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশেষ করে বুড়িচং বাজার এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ হবে। দ্রুত সড়ক সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তারা।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, “কুমিল্লা থেকে বুড়িচং পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। বাকি ব্রাহ্মণপাড়া অংশের কাজও শিগগিরই প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু হবে। আশা করি, কিছুদিনের মধ্যেই ভোগান্তি কমে আসবে।”

