সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এটিএম শামসুল হুদা আজ শনিবার সকালে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
শামসুল হুদা সকাল ৯টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কর্মময় জীবন ও অবদান
এটিএম শামসুল হুদা তত্ত্বাবধায়ক সরকার সমর্থিত পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। তার কমিশনের অধীনেই ছবিসহ জাতীয় ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে অনবদ্য ভূমিকা রাখে।
শামসুল হুদা ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে কর্মজীবন চালিয়ে যান। ২০০০ সালে তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: বাগেরহাটে মহকুমা প্রশাসক (সাব ডিভিশনাল অফিসার), পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
দাফন সংক্রান্ত তথ্য
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এটিএম শামসুল হুদার মেয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরার পর সাবেক এই সিইসির দাফনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এটিএম শামসুল হুদার মৃত্যু বাংলাদেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার কর্ম ও অবদান দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

