সমতট ডেস্ক : আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম। এই আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন চরমে, যেখানে একই পরিবারের সদস্য অর্থাৎ ভাবি ও ভাসুরের মধ্যেই চলছে মনোনয়ন নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী তাদের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে জোর কদমে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ফিরে পাওয়ায় তাদের প্রচারে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে।
একসময় বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার দলটির মূল চ্যালেঞ্জ হবে জামায়াত। সম্প্রতি লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে দ্বিধা কেটে যাওয়ায় সারা দেশের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও প্রচারণায় গতি বাড়িয়েছেন।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন:
- মো. আমিনুল ইসলাম: কেন্দ্রীয় বিএনপির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য, যিনি ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন।
- মাসউদা আফরোজ হক শুচি: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক এবং মো. আমিনুল ইসলামের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী। তিনি তৃণমূল থেকে দলীয় হাইকমান্ড পর্যন্ত জোর লবিং চালাচ্ছেন।
- আব্দুস সালাম তুহিন: জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
- অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সেন্টু: গোমস্তাপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব।
- তারিক আহম্মেদ: রহনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র।
- মু. ইমদাদুল হক মাসুদ: বুয়েটের আহসান উল্লাহ হলের সাবেক ভিপি।
উল্লেখযোগ্য যে, মাসউদা আফরোজ হক শুচি ও মো. আমিনুল ইসলামের বাড়ি নাচোল উপজেলায়, যা এই পারিবারিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
জামায়াতের একক প্রার্থী ও তাদের প্রস্তুতি
এ আসনে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ড. মু. মিজানুর রহমানকে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি দলের প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই মাঠে রয়েছেন এবং দলমত নির্বিশেষে অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। মিজানুর রহমান মনে করেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত। জামায়াতের নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, বিগত দিনের তুলনায় তাদের ভোট ও জনপ্রিয়তা দুটোই বেড়েছে।
ভোটের সমীকরণ ও আওয়ামী লীগের প্রভাব
২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথ নেওয়ায় আমিনুল ইসলামের ওপর তৃণমূল বিএনপি কিছুটা ক্ষুব্ধ। এদিকে, গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মু. জিয়াউর রহমান এবং সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস বর্তমানে পলাতক।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকলে তাদের কর্মী-সমর্থকদের ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়েও এই আসনে নানা গুঞ্জন চলছে। স্থানীয় ভোটার ও সাধারণ মানুষের ধারণা, ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লা—এই দুই প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে যে প্রার্থী আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের অধিকাংশ ভোট পাবেন, তিনিই এই আসনে জয়ী হতে পারেন।
অন্যান্য দলের অনুপস্থিতি
এই আসনে এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম তেমন দেখা যাচ্ছে না। ফলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং জামায়াতের একক শক্তিশালী প্রার্থী—এই সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে রাজনৈতিক মহল।

