স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লা শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও কান্দিরপাড় জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে বিতর্কিত ইব্রাহিম কাদেরীর পুনঃনিয়োগ ঘিরে সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জুলাই বিপ্লবের ১০ মাস পরেও রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িত, স্বৈরাচারী সরকারের আজ্ঞাবাহী বলে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি কীভাবে পুনরায় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দায়িত্বে আসীন হন — এই প্রশ্ন তুলেছে কুমিল্লার সাধারণ ধর্মপ্রাণ জনগণ।
স্থানীয় মুসল্লিরা অভিযোগ করেন, ঈদুল আজহার জন্য একজন নতুন, নিরপেক্ষ এবং ধর্মপ্রাণ ইমাম নিয়োগের প্রতিশ্রুতি থাকলেও শেষ মুহূর্তে কোনোরূপ জনমত যাচাই ছাড়াই আগের ইমামকেই পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই একপেশে সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মুসল্লিরা স্থানীয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
বিশেষ করে ইব্রাহিম কাদেরীর অতীত ভূমিকা, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও ধর্মীয় নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠেছে। তাকে “বেদাতী”, “মাজারপন্থী” ও রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনেকের মতে, এমন একজন ইমামকে পুনঃনিয়োগ দেওয়ার অর্থ হলো কুমিল্লার ধর্মপ্রাণ মানুষদের মতামত উপেক্ষা করা এবং ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষা না করা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিয়মিত মুসল্লি বলেন,
“আমরা চেয়েছিলাম নিরপেক্ষ, আল্লাহভীরু ও বিদআতমুক্ত একজন ইমাম। কিন্তু আমাদের মতামত না নিয়ে আবার সেই পুরোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকেই বসানো হলো। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”এবং দাবি করছি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে একজন স্কলারও আন্তর্জাতিক মানের ইমাম নিয়োগ দিবে।
স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে কথোপকথনে জানা গেছে, তারা বিষয়টি অবগত এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
একটি জনবহুল শহরের কেন্দ্রীয় ধর্মীয় স্থানে ইমাম হিসেবে কারা নিয়োজিত হবেন — তা যেন কেবল রাজনৈতিক নয়, ধর্মীয় ও সামাজিক ঐক্যের প্রতিফলন হয় — এমনটাই কামনা করছেন কুমিল্লার সচেতন নাগরিকরা। দ্রুত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনমত গ্রহণ করে নতুন ইমাম নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।

