সমতট ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থাপিত খসড়া পরিকল্পনা ঘিরে জেনেভায় রবিবার বৈঠক করেছেন ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। কিয়েভ ও দেশটির মিত্ররা মনে করছে, খসড়ায় হামলাকারী রাশিয়ার প্রতি বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির হাতে ২৮ দফা পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় আছে। এতে ইউক্রেনকে ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া, সামরিক সক্ষমতায় সীমা মানা এবং ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগের কথা বলা হয়েছে। ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতের প্রায় চার বছর পর এমন শর্ত ইউক্রেনীয়দের কাছে আত্মসমর্পণের সমতুল্য বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা ঘোষণার পর থেকেই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। ইউরোপীয় মিত্ররা বলছেন, তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি।
রবিবার জেনেভায় পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন অবসান নিয়ে আলোচনায় তারা শেষ বিবরণগুলো ঠিকঠাক করতে চান। তিনি জানান, দুই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও জেলেনস্কি মিলিত না হওয়া পর্যন্ত কিছুই চূড়ান্ত হবে না। জেনেভা যাওয়ার আগে ট্রাম্প বলেন, তার বর্তমান প্রস্তাবই চূড়ান্ত নয়।
মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য, রবিবার সকালে সমন্বয় বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধাপ ও বিন্যাসে দিনভর আলোচনা হবে। ইতোমধ্যে মার্কিন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতিবাচক ও গঠনমূলক কথাবার্তা হয়েছে।
জেনেভায় বৈঠক শুরুর আগে কূটনৈতিক গাড়ির বহর রাস্তায় দেখা গেছে। আলোচনায় অংশ নিতে পৌঁছান মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যানিয়েল ড্রিসকল। ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলেনস্কির দফতরপ্রধান আন্দ্রি ইয়র্মাক।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানির সমন্বয়ে গঠিত ই-থ্রি জোটের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারাও আলোচনায় যোগ দেন। ইতালিও একজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানান, তিনি রবিবার জেলেনস্কির সঙ্গে এই শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলবেন।
ইউরোপীয় ও পশ্চিমা নেতারা শনিবার বলেছিলেন, রাশিয়ার মূল দাবিগুলো অনুমোদন করা যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাটি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য, তবে কিয়েভের জন্য আরও ‘উন্নত প্রস্তাব’ দরকার। জার্মান সরকারের একজন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের ভিত্তিতে তৈরি একটি ইউরোপীয় খসড়া শান্তি পরিকল্পনা ইউক্রেন ও মার্কিন প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর মধ্যে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন যে, এই পরিকল্পনায় ইউক্রেন মর্যাদা ও স্বাধীনতা হারানোর ঝুঁকিতে আছে, আবার এতে ওয়াশিংটনের সমর্থন হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পরিকল্পনাটিকে যুদ্ধ সমাধানের ভিত্তি বলে বর্ণনা করেছেন। তবে দখল করা কিছু এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকায় পরিকল্পনার কয়েকটি প্রস্তাবে মস্কো আপত্তি তুলতে পারে।

