সমতট ডেস্ক : পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে জনমত তৈরিতে ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের সব জেলায় এবং ঢাকার প্রতি থানায় গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করবে দলটি। বুধবার দলটির ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই কর্মসূচির বিষয়ে জানানো হয়।
ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (চরমোনাই পীর) মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম গতকাল মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নিয়মিত বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে বলেছেন, গত বছরের জুলাই আগস্টে ছাত্র-জনতা যে জীবন ও রক্ত উৎসর্গ করেছে তা কেবলই হাসিনার উৎখাতের জন্য না। বরং বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই জনতা রাজপথে এসেছিলো।
রেজাউল করিম বলেন, অবস্থার প্রেক্ষিতে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ যেনো সেই পুরোনো তিমিরেই ফিরে যাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তা হতে দিতে পারে না। তাই আমরা স্বৈরতন্ত্র রোধের পরীক্ষিত ও কার্যকর পন্থা হিসেবে পিআর পদ্ধতিতে আগামী নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে রাজপথে পুনরায় অবস্থান গ্রহণ করবো।
জুলাই আন্দোলনের বিষয় উল্লেখ করে রেজাউল করিম বলেন, তরুণ শিক্ষার্থীদের রক্তকে কোনো রাজনৈতিক দলের লোভের কারণে ব্যর্থ হতে দেওয়া যায় না। তারই অংশ হিসেবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের সব জেলায় গণসমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে এবং ঢাকার প্রতি থানায় থানায় গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে; ইনশাআল্লাহ। একই সাথে পিআরের পক্ষে জনমতকে আরো জোড়ালো করতে প্রচার সামগ্রী বিতরণ করা হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আদায়ে আমরা বদ্ধপরিকর। আমরা নির্বাচন চাই। কিন্তু নির্বাচনের নামে স্বৈরতন্ত্র সহায়ক পুরোনো বন্দোবস্ত ফিরে আসুক তা চাই না। সেজন্য রাজপথের পাশাপাশি সব ধরনের সংগ্রাম চালিয়ে যাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ক্রমান্বয়ে আরো কঠোর কর্মসূচির দিকে অগ্রসর হতেও পিছপা হবে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তাই সরকারকে আহ্বান জানাবো, নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে এজেন্ডা তুলুন এবং গণভোট দিন। যারা পিআরের বিরোধিতা করছেন তারা তো মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে। তাই জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে দিন। কোন দল বিশেষের কাছে নতিস্বীকার করে দেশকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবেন না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ৫৫/বি পুরানা পল্টনে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা মুসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, যুগ্ম-মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন, কৃষি ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল কাশেম, সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ মকবুল হোসাইন, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী দেলাওয়ার হোসেন সাকী, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী মোস্তফা কামাল, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী শেখ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম রুহুল আমীন, ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলাম, সহ-প্রচার ও দাওয়াহ্ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী, কেন্দ্রীয় সদস্য মুফতি রেজাউল করীম আববার, সদস্য মাওলানা শামসুদ্দোহা আশরাফী।

