তৌহিদ হোসেন সরকার: জুলাই বিপ্লবের এক বছরপূর্তি উপলক্ষে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হলো “ইতিবৃত্ত সংসদ” আয়োজিত এক আবেগঘন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শুক্রবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এই আয়োজন শুরু হয়, যা দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায় প্রত্যয়ের নতুন সুরে।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল “জুলাইয়ের দৌহের গান” ও নাট্য পরিবেশনা “কথা বলতেই হবে”, যেখানে গত বছরের ছাত্র আন্দোলনের বাস্তব চিত্র, শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ এবং বৈষম্যবিরোধী সংগ্রামের অনুপম উপস্থাপনা ঘটে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. মজিবুর রহমান, সঞ্চালনায় ছিলেন ফারহান মোস্তফিজ আনছারি। নাট্য নির্দেশনায় ছিলেন শিহাব আহমেদ ও ফেরদৌস সায়েম ভূঁইয়া। নাট্যরচনায় ছিলেন মহিন উদ্দিন। সংগীত ও নাটক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন ইতিবৃত্ত সংসদের সদস্যবৃন্দ ও কুমিল্লার স্থানীয় তরুণ নাট্যকর্মীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা মহানগরীর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন— “জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের স্বপ্ন ছিল একটি ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র। শহীদদের রক্তের উপর ভিত্তি করেই ইনশাআল্লাহ দেশে আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এখন প্রয়োজন বিচার ও কাঠামোগত সংস্কার।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লার সমন্বয়ক আবু রায়হান বলেন— “৪ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পুলিশ প্রকাশ্যে গুলি চালায়, আমরা হতভম্ব হয়ে যাই। সে সময় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সাহস নিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়ান।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, তা’মীরুল উম্মাহ আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রাসেদুল হক, জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সভাপতি কাজী নজির আহমেদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুমিল্লা মহানগরের সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জয়েন্ট সেক্রেটারি মো. এনামুল হক মিলন ও শ্রমিক কল্যাণ সেক্রেটারি এডভোকেট জিল্লুর রহমান ও ১১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান সোহেল।
শিল্পকলা একাডেমির পূর্ণ দর্শকশালায় দর্শনার্থীরা নাটক দেখে আন্দোলনের উত্তাপে নিজেদের অন্তরস্পর্শে অনুভব করেন। “কথা বলতেই হবে” নাটকে ফুটে ওঠে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, ছাত্রদের সাহসী প্রতিবাদ, শহীদদের আত্মত্যাগ ও একটি ন্যায়ের সমাজ গড়ার স্বপ্ন।
এই নাট্য আয়োজন কেবল বিনোদন নয়—এটি ছিল চেতনার জাগরণ, আন্দোলনের পুনর্জন্ম এবং নতুন সমাজ গঠনের সাংস্কৃতিক প্রেরণা।
জুলাই বিপ্লব এখন কেবল একটি দিন বা স্মৃতি নয়—এটি একটি চলমান ইতিহাস, একটি চেতনার নাম, একটি জাতিকে জাগিয়ে তোলার স্পিরিট। “ইতিবৃত্ত সংসদ”-এর এই আয়োজন তাই শুধু মঞ্চে থেমে থাকেনি, ছড়িয়ে পড়েছে দর্শকের হৃদয়ে এবং ভবিষ্যতের প্রত্যয়ে।

