সমতট ডেস্ক: ডাকাতির চেষ্টা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় গণপিটুনিতে দুই ডাকাত নিহত হয়েছে। এ সময় আরো ৬ ডাকাত গুরুতর আহত হয়েছে। ডাকাতদের এলোপাতাড়ি গুলিতে শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের স্থানীয় নয়জন আহত হয়েছেন। নিহত ডাকাতদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে সিআইডির ক্রাইম সিনসহ পুলিশের বিভিন্ন শাখা।
গতকাল রাত ৯টায় ডাকাতরা শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া এলাকায় জনগণের রোষানলে পড়ে। সেখান থেকে রাত ১টার দিকে আহত ডাকাতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। রাত দেড়টায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা দুই ডাকাতকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত ৬ ডাকাত ও এলাকাবাসীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সিআইডি’র ক্রাইম সিনের এস আই আমিনুল ইসলাম বলেন, নিহত ডাকাতদের পরিচয় নিশ্চিত হতে আঙুলের ছাপসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রাজারহাট এলাকায় ডাকাতির চেষ্টাকালে স্থানীয়রা ডাকাতদের ধাওয়া দেয়। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাতরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে মাদারীপুরে ৭ জন ও শরীয়তপুরে ২ জন আহত হন।
মাদারীপুরের আহত ৭ জনের মধ্যে ৫ জন জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দুইজনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ডাকাতরা পালানোর জন্য শরীয়তপুরের কীর্তিনাশা নদী ব্যবহার করতে চেয়েছিল। পালং থানার পুলিশ তখন বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নেয়। আঙ্গারিয়া সেতু পার হয়ে ডোমসার ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া এলাকায় ডাকাতরা স্থানীয়দের রোষানলে পড়ে।
খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ও নিহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসে। নিহত ডাকাতদের ব্যক্তিগত পরিচয় ও ফরেনসিক তথ্য সংগ্রহ করতে কাজ করছে পুলিশের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ টিম।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মুনতাসির খান জানান, রাত সাড়ে ৯টায় ডাকাতদের গুলিতে আহতদের হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। রাত ১টার পর আহত ৭ ডাকাতকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে অপর এক ডাকাতকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে।

